০৮ জুলাই: ২০২৬
” বিশ্ব মেডিকেল টেকনোলজিস্ট দিবস”
বিশ্বব্যাপী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে “বিশ্ব মেডিকেল টেকনোলজিস্ট দিবস”। দিবসটি উপলক্ষে দেশের সকল মেডিকেল টেকনোলজিস্টকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হচ্ছে।
আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা পরিকল্পনা এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ল্যাবরেটরি, রেডিওলজি, ফিজিওথেরাপি, ডেন্টাল, ফার্মেসি ও অন্যান্য স্বাস্থ্য প্রযুক্তি সেবার মাধ্যমে তারা নিরলসভাবে জনগণের স্বাস্থ্যসেবায় অবদান রেখে চলেছেন।
এ বছরের প্রতিপাদ্য “দক্ষ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, নির্ভুল রোগ নির্ণয়, সুস্থ বাংলাদেশ“প্রতিপাদ্যের আলোকে দক্ষ, আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের পেশাগত উন্নয়ন, ন্যায্য মর্যাদা এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
বাংলাদেশে ১৯৬৬ সালে মেডিকেল টেকনোলজি শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হলেও এখনো এই পেশার জন্য পৃথক পেশাগত কাউন্সিল প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ফলে চিকিৎসক, নার্স ও ফার্মাসিস্টদের ন্যায় মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের পেশাগত মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।
দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন সংগঠন আলোচনা সভা, র্যালি, সেমিনার, সচেতনতামূলক কর্মসূচি এবং সম্মাননা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।
বিশ্ব মেডিকেল টেকনোলজিস্ট দিবসে আমরা স্বাস্থ্যসেবায় মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের অসামান্য অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি এবং তাদের ন্যায্য মর্যাদা, পেশাগত স্বীকৃতি, ক্যারিয়ার উন্নয়ন ও জনবল কাঠামোর উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাই।
আজ থেকে ২৫৯ বছর আগে ৮ জুলাই ১৭৬৬ সালে, আধুনিক মেডিকেল টেকনোলজি বিভাগের জনক ডা. ডমিনিক জনি নারি, যিনি ফরাসি সামরিক ডাক্তার হিসেবে নেপোলিয়ন বোনাপার্টের সেনাদলে প্রধান সার্জন পদে নিয়োজিত ছিলেন। তাঁরই মাতৃকৃষ্ট ফলাফল আজকের এই “মেডিকেল টেকনোলজিস্ট” পরিমণ্ডল। নির্দিষ্ট কিছু সেনাদের যথাযথ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অবলম্বন করার শিক্ষা দিয়ে তাদের প্রশিক্ষিত করে তোলেন এবং তৎকালীন সময়ে প্যারামেডিক্যাল বা আজকের দিনে মেডিকেল টেকনোলজি বিভাগের সূচনা হয়। যাদের ওপর ভিত্তি করে আহত সেনাদের যুদ্ধক্ষেত্রে সেবা প্রদানের কথা ভেবে অত্যন্ত দ্রুত আধুনিক ট্রাইএজ সিস্টেম চালু করেন, যার মাধ্যমে মিনিট ১ থেকে ৬০ ঘণ্টার সেনাও চিকিৎসা পেয়ে সুস্থ হয়ে যুদ্ধের ময়দানে ফিরে আসতেন। এই আধুনিক ট্রাইএজ সিস্টেমের মধ্যে ক্রমে উন্নতি হয়ে আজ সমগ্র মেডিকেল টেকনোলজি বিভাগ অর্থাৎ ল্যাবরেটরি টেকনোলজি, ডেন্টাল টেকনোলজি, ফিজিওথেরাপি টেকনোলজি, রেডিওলজি টেকনোলজি, ক্রিটিক্যাল কেয়ার টেকনোলজি সহ সমগ্র বিভাগ চালু হয়েছে। যাদের মূল কাজ হলো আধুনিক প্রযুক্তি-নির্ভর চিকিৎসা পরিসেবার সাথে পরিচয় ঘটিয়ে রোগ নির্ণয়ে চিকিৎসকদের যথাযথ সহায়তা করা। অতএব মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পরিসরটি বৃহৎ আকারে অনলাইনে আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর চিকিৎসা সম্পর্কে জানা সম্ভব। এই পরিসরে চালিকাশক্তি অবশ্যই প্রতিটি বিভাগের অভিজ্ঞ চিকিৎসকের ধারণা প্রসূত, তাই যথাযথভাবে নির্দিষ্ট বিভাগের মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বাধীনতার দীর্ঘ ৫৩ বছর পরে ২০১৮ সালে নন-মেডিকেল গেজেটের মাধ্যমে টেকনিশিয়ান পদবী মুছে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পদবী হয়েছে। স্বাস্থ্য সেবা পেশার ডাক্তার, নার্স, ফার্মাসিস্টদের পেশাগত কাউন্সিল প্রতিষ্ঠিত হলেও বারবার সরকারের কাছে আবেদন করার পরও মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের কাউন্সিল প্রতিষ্ঠিত হয়নি। নার্সিং পেশাকে গুরুত্ব দিয়ে তাদের উপ-পরিচালক, পরিচালক পদবী দিলেও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েশন ডিগ্রি থাকলেও মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের পদোন্নতির সুযোগ রাখা হয়নি। সরকার অ্যালাইড হেলথ প্রফেশনাল শিক্ষা বোর্ড তৈরির সিদ্ধান্ত নিলেও এখন বাস্তবায়িত হয়নি, যা মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের পেশার বিশাল গুরুত্ব বহন করে। প্রতি বছর ৮ জুলাই ডমিনিক জনি নারির অবদানকে স্মরণ রেখে “বিশ্ব মেডিকেল টেকনোলজিস্ট দিবস” পালিত হয়ে আসছে এবং এই বিশেষ দিনে তাঁকে উদ্দেশ্য করে আধুনিক অ্যালাইড হেলথ শিক্ষা বোর্ড বাস্তবায়ন করে বৃহৎ পরিসরে প্রতিটি বিভাগে দক্ষ মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের ডাক্তার, নার্সদের মতো সম্মানিত করা হোক— এই অনুরোধ রইলো স্বাস্থ্য প্রশাসনের প্রতি।
এ উপলক্ষে আগামী ০৮ জুলাই-২৬ তারিখ বিকাল ৪.০০ ঘটিকায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ডাঃ মিলন হলে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন, বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।